উদ্যোক্তা কেন হবেন? সফল উদ্যোক্তার কয়েকটি বিশেষ গুণাবলী।

0

উদ্যোক্তার ধারনা :- বন্যায় এলাকার একটা বাঁধ ভেঙ্গে মানুষের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। সরকার কবে মেরামত করবে তা বলা যাচ্ছে না। সামনে বৃষ্টি শুরু হলে মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। মি. কামরুল এলাকার হৃদয়বান মানুষ। তিনি এ সমস্যা নিয়ে গণ্যমান্য অনেকের সাথে কথা বললেন। ছাত্র, যুবক ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে বাঁধটা নিজেরা সবাই মিলে মেরামত করা যায় কি না সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহন করলেন। এরই এক পর্যায়ে একদিন স্কুল মাঠে একটা সভা হলো। গণ্যমান্য অনেকেই কথা বললেন। ছাত্র ও যুবকদের পক্ষ থেকেও কেউ কেউ উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য রাখলো। সিদ্ধান্ত হলো যারা পারবে টাকা দেবে এবং ছাত্র ও যুবকরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে বাঁধ মেরামত করবে। একদিন সকালে নারী-পুরুষ শিশুসহ সবার উপস্থিতিতে কাজ শুরু হলো। সবার মধ্যে প্রচণ্ড উৎসাহ। শুধু বাঁধ মেরামত ছাড়াও গ্রামের মধ্যে রাস্তায় যেখানে যা সমস্যা ছিল সব সংস্কার হয়ে গেলো। এক্ষেত্রে মি. কামরুলের কর্মপ্রচেষ্টা উদ্যোগের একটা উদাহরণ। আর এই উদ্যোগ যে গ্রহন করে তাকেই উদ্যোক্তা বলা হয়ে থাকে।



আজকে আমরা আলোচনা করবো , উদ্যোক্তা কেন হবেন? সফল উদ্যোক্তার কয়েকটি বিশেষ গুণাবলী।

কেন একজন উদ্যোক্তা হবেন?

উদ্যোক্তা হবার জন্য অনেক কারন থাকতে পারে তা নি বর্ননা করা হলো :- 

স্বাধীনতা এবং নিয়ন্ত্রণ :- উদ্যোক্তাদের তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার এবং তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। তারা তাদের নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যত গঠন করার ক্ষমতা রাখে ।

আবেগ এবং আগ্রহ :- অনেক উদ্যোক্তা তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করে, কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট পণ্য, সেবা বা শিল্প সম্পর্কে উৎসাহী। তাদের নিজস্ব কোম্পানি শুরু করে, তারা সেই আবেগ বা আগ্রহকে ক্যারিয়ারে পরিণত করতে পারে।

আর্থিক সম্ভাবনা :- একটি সফল ব্যবসা শুরু করা আর্থিকভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে। উদ্যোক্তাদের একজন কর্মচারীর থেকে  তাদের চেয়ে বেশি উপার্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা তাদের কোম্পানি বড় করে তুলতে পারে। 

উদ্যোক্তা কেন হবেন? সফল উদ্যোক্তার কয়েকটি বিশেষ গুণাবলী।

ব্যক্তিত্ব :- উদ্যোক্তা একটি চ্যালেঞ্জিং যাত্রা, যা ব্যক্তিদের ব্যক্তিত্ব  বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।  

পার্থক্য তৈরি করে :- উদ্যোক্তারা তাদের সম্প্রদায় বা সামগ্রিকভাবে সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করার ক্ষমতা রাখে এমন পণ্য বা সেবা তৈরি করে যা সমস্যার সমাধান করে অথবা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে।

 নমনীয়তা বা কর্ম-জীবনের ভারসাম্য :- একজন উদ্যোক্তা হিসাবে, আপনার নিজের সময়সূচী সেট করার এবং যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি প্রথাগত সাকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ পর্যন্ত কাজের তুলনায় আরও নমনীয়তা এবং ভাল কর্ম-জীবনের ভারসাম্য প্রদান করতে পারে।

সৃজনশীল স্বাধীনতা :-  উদ্যোক্তাদের নতুন পণ্য, সেবা বা ব্যবসায়িক মডেল উদ্ভাবন এবং তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে যা শিল্পগুলিকে ব্যাহত করতে পারে এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে।

শেখার সুযোগ :- একটি ব্যবসা শুরু করার সাথে নতুন দক্ষতা শেখা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া যায়। অনেক উদ্যোক্তার জন্য, ক্রমাগত শেখার এবং ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া একটি প্রধান প্রেরণাদায়ক কারণ।

কোম্পানির সংস্কৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ :- উদ্যোক্তাদের একটি কোম্পানি সংস্কৃতি তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে যা তাদের মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি নিজেদের এবং তাদের কর্মীদের জন্য আরও পরিপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক কাজের পরিবেশের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

একটি উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া :- অনেক উদ্যোক্তা বিশ্বের উপর একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যাওয়ার ইচ্ছা দ্বারা চালিত হয়। একটি সফল ব্যবসা শুরু করার মাধ্যমে, তারা একটি উত্তরাধিকার তৈরি করতে পারে যা তাদের নিজের জীবনকালের বাইরেও প্রসারিত হয়।

সফল উদ্যোক্তার কয়েকটি বিশেষ গুণাবলী-

উদ্যোক্তার গুণাবলি :- ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমাননির্ভর পথযাত্রায় যে উদ্যোক্তা তার নতুন ব্যবসায় চিন্তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে সাফল অর্জনে সক্ষম হন তাকেই সফল উদ্যোক্তা বলে । সফল উদ্যোক্তা নিঃসন্দেহে একজন সৃজনশীল উদ্ভাবক, উত্তম-সংগঠক, যোগ্য পরিচালক ও সফল নেতা । তিনি সাধারণ ব্যবসায়ী বা ব্যবস্থাপক থেকে ভিন্নতর । বিভিন্ন গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সমাহারে তিনি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত । নিম্নে একজন সফল উদ্যোক্তার বিভিন্ন গুণ বা বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো :- 

১. সৃজনশীল মানসিকতা বা সৃজনশক্তি :- নতুন কিছু চিন্তা করার এবং তা দিয়ে একটা ধারণাকে দাঁড় করাতে পারার মতো ব্যক্তির মানসিক সামর্থ্যকে সৃজনশীল মানসিকতা বা সৃজনশক্তি বলে । একজন উদ্যোক্তা অন্যেরটা সম্পূর্ণ অনুকরণ করেন না। হতে পারে তিনি অন্যের কাজ দেখে তাতে নতুন কিছু সংযোজন করতে পারেন। নতুন কোনো ব্যবসায় দাঁড় করাতে পারেন। নতুন পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ইত্যাদি সংযোজন করতে পারেন। নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারেন-যার সবকিছুর জন্য সৃজনশীল মনসিকতা বা সৃজনশক্তি অপরিহার্য বিবেচিত হয়। অর্থাৎ একজন ভালো উদ্যোক্তা নতুন কিছু সৃষ্টি করার মতো সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক মনের অধিকারী হয়ে থাকেন।

২. কৃতিত্বার্জ্জন চাহিদা :- একজন ব্যক্তির মধ্যে কৃতকার্যে সাফল্য লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে কৃতিত্বার্জন বা সাফল্যার্জন চাহিদা বলে । কোনো ব্যক্তি যদি তার কাজ থেকে সাফল্য প্রত্যাশা না করেন, দৌড় দিয়ে যদি প্রথম হওয়ার স্বপ্ন না দেখেন তবে ঐ কাজে তার সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আত্মত্যাগ থাকে না । তাই একজন সফল উদ্যোক্তা সাফল্য অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও আশাবাদী মন নিয়ে পথ চলেন। তিনি তার উদ্যোগ প্রচেষ্টাকে নিজের জীবনে সাফল্য লাভের উপায় বা ক্যারিয়ার হিসেবে গণ্য করেন এবং সকল প্রচেষ্টায় তার এ স্পৃহার প্রতিফলন ঘটে ।

৩. দূরদৃষ্টি :- জ্ঞানচক্ষু বা বিশেষ জ্ঞান (প্রজ্ঞা) দ্বারা ভবিষ্যৎকে উপলব্ধি বা বুঝতে পারার সামর্থ্যকে দূরদৃষ্টি বলে । একজন ব্যক্তি তার নতুন চিন্তার সাফল্য সম্ভাবনা যদি বুঝতে না পারেন, সমস্যা কী হতে পারে যদি ভাবতে না পারেন তবে তার পক্ষে কখনই ভালো উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব নয় । কবীর হোসেন অন্যের সাফল্য দেখে কোনো ব্যবসায়ে নেমে পড়লো । কিন্তু ঐ ব্যবসায়ের ভবিষ্যত সম্ভাবনা কী, কী ধরনের বাধাগুলো আগামী দিনে ঐ ব্যবসায়কে মোকাবেলা করতে হবে- এগুলো যদি বোঝার মতো ভাবার মতো সামর্থ্য তার না থাকে তবে তার পক্ষে ব্যবসায় করা সম্ভব নয়; ব্যবসায় উদ্যোক্তা হওয়াতো দূরের কথা ।

৪. সাহস ও বুদ্ধিমত্তা :- নির্ভিকভাবে পথ চলতে পারার গুণকেই সাহস বলে। অন্যদিকে, মানুষের বোধশক্তি ও বিচারশক্তিকে বুদ্ধিমত্তা বলা হয়ে থাকে। বোধশক্তিসম্পন্ন একজন মানুষ যদি করণীয় ঠিক করে সাহসীকতার সাথে তা অর্জনে পথ চলতে পারে তবে তার পক্ষে সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়। অন্যদিকে যদি দুই পা চলে আর এক পা পিছায়, সবসময় অজানা ভয় যদি কাউকে তাড়া করে ফেরে তবে তার পক্ষে ভালো উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব হয় না। ঝুঁকিপূর্ণ, অনুমাননির্ভর ও অচেনা পথে কার্যত জীবনকে বাজি রেখে একজন উদ্যোক্তা তার উদ্যোগ চিন্তাকে বাস্তবায়ন করেন। এ জন্য একজন উদ্যোক্তাকে যথেষ্ট সাহসী হতে হয়। তার এ সাহস অবশ্যই বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সুষমামন্ডিত হয়ে থাকে ।

৫. ধৈর্য ও কষ্টসহিষ্ণু  :- যে গুণের প্রভাবে একজন মানুষ বিরূপ পরিস্থিতিতে প্রতিকূলতা সহ্য করে নিজ লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে পারে তাকে ধৈর্য্য বলে। অন্যদিকে দুঃখ ক্লেশ, বেদনা ইত্যাদি সইতে পারার গুণকে কষ্টসহিষ্ণুতা বলা হয়ে থাকে। একজন উদ্যোক্তা নতুন ব্যবসায়, পণ্য, পদ্ধতি, বাজার ইত্যাদি নিয়ে যখন কাজ করে তখন প্রত্যাশিত অবস্থার বাইরে বিরূপ অবস্থা তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সে অবস্থাতেও যদি ভেঙ্গে না পড়ে, অবিচল থেকে, ধৈর্য ধরে এবং দুঃখ ও বেদনাকে সহ্য করেও একজন উদ্যেক্তা করণীয় নির্ধারণপূর্বক এগিয়ে যেতে পারে তবে তার পক্ষে সাফল্যলাভ সম্ভব হয় । তাই ধৈর্য এবং সেই সাথে কষ্টসহিষ্ণুতা উদ্যোক্তার বড় গুণ । তাই সহজেই ধৈর্য হারান বা ভেঙ্গে পড়েন এমন মানুষ কখনই ভাল উদ্যোক্তা হতে পারে না ।

৬. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা :- আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাকে ঝুঁকি বলে । এই ক্ষতি মেনে নেয়ার মতো মনকেই উদ্যোক্তার ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা বলে। যে কোনো নতুন উদ্যোক্তার ঝুঁকির বা ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই সাফল্য আসবেই এবং কখনই ক্ষতি স্বীকার করতে হবে না এমন চিন্তা উদ্যোক্তাকে বাস্তবতার গুণ বর্জিত করে তোলে । তাই একজন উদ্যোক্তার ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা একটি বড় গুণ । চাকরিজীবী ও গতানুগতিক ব্যবসায়ীদের সাধারণত এ ধরনের মানসিকতা থাকে না। একজন উদ্যোক্তা তার সময়, শ্রম ও পুঁজিকে সমন্বিত করে এবং বিভিন্ন দায়ের বোঝা মাথায় নিয়ে উদ্যোগকে এগিয়ে নেন। এরূপ মানসিকতাই তাকে এক্ষেত্রে সাহস জোগায়।

৭. সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য :- বিভিন্ন বিকল্প করণীয় থেকে বাস্তবতার আলোকে উত্তম করণীয় নির্বাচন করতে পারার গুণকেই সিদ্ধান্তে গ্রহণের সামর্থ্য বলে। যথাসময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য একজন সফল উদ্যোক্তার বড় গুণ। কোনো উদ্যোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে হাজারো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। সম্ভাব্য সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদির যথাযথ মূল্যায়ন করেই এ সকল সিদ্ধান্ত নিতে হয় । এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব বা দুর্বলতা পুরো উদ্যোগকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৮. নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা :- কর্তব্য-কর্মে দৃঢ় অনুরাগ, আস্থা, বিশ্বাস, মনোযোগ ইত্যাদিকে নিষ্ঠা বলে । অন্যদিকে অকৃত্রিমতা, কপটতামুক্ততা, লোক দেখানো ভাব পরিহার করে কাজ করাকে আন্তরিকতা বলা হয়ে থাকে । একজন সফল উদ্যোক্তাকে অবশ্যই তার কাজে নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হতে হয় । নিষ্ঠা তাকে নিজস্ব কাজে আস্থাবান, মনোযোগী ও দায়িত্বশীল করে তোলে। এটি তার আচরণে যে প্রভাব ফেলে তা অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণে যেমনি সমর্থ হয় তেমনি ক্যারিয়ার গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে মানষ যখন দেখে কোনো ব্যক্তি তার কাজে প্রকৃতই নিষ্ঠাবান এবং কোনো ধরনের কপটতা বা কৃত্রিমতা তার মধ্যে নেই। তখন অন্যরা তাকে সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে থাকে ।

৯. যোগাযোগ দক্ষতা :- অন্যের বা অন্যদের নিকট সঠিক সময়ে সঠিক উপায় বা পদ্ধতিতে নিজের বক্তব্য বা প্রয়োজন কার্যকরভাবে তুলে ধরে উদ্দেশ্য অর্জনের সামর্থ্যকে যোগাযোগ দক্ষতা বলে। সফলতা অর্জনে একজন উদ্যোক্তাকে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। এ কারণেই যোগাযোগ দক্ষতা একজন সফল উদ্যোক্তার অপরিহার্য গুণ বা বৈশিষ্ট্য। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের এ যুগে বিভিন্নমুখী যোগাযোগ দক্ষতা ছাড়া কারও পক্ষেই অন্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় ।

১০. সামাজিক দায়িত্ববোধ :- সমাজের প্রতি করণীয় রয়েছে উদ্যোক্তার এই বোধ বা চিন্তাকে উদ্যোক্তার সামাজিক দায়িত্ববোধ বলে । একজন উদ্যোক্তাকে সফলতা লাভে সমাজের বিভিন্ন পক্ষের সাথে কাজ করতে হয় । সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বাভাবিক অনুভূতি যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তার পক্ষে সংশ্লিষ্টদের সহানুভূতি অর্জন সম্ভব হয় না। আর এরূপ সহানুভূতি ও সহযোগিতা ছাড়া একজন উদ্যোক্তা সফল হতে পারে না।

১১. মূল্যবোধ ও নৈতিকতা :- কোনটা ভালো এবং কোনটা মন্দ এ সংক্রান্ত উদ্যোক্তার বোধকে মূল্যবোধ এবং ভালোকে গ্রহণ ও মন্দ এড়িয়ে চলাকে নৈতিকতা বলে । একজন উদ্যোক্তাকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুণসম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। অন্যায় ও অসৎ চিন্তা ও আচরণ দিয়ে কারও পক্ষেই বেশিদূর এগুনো সম্ভব নয়-এ ভাবনা উদ্যোক্তার মধ্যে থাকার প্রয়োজন পড়ে ।

১২. সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতা :- মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণাদিকে কার্যকরভাবে সংহত করে সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্যতার সাথে তা পরিচালনা করার সামর্থ্যকেই সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতা বলে । নতুন উদ্যোগ সফল করার জন্য একজন উদ্যোক্তাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণাদি সংগ্রহ ও সমন্বিত করতে হয়। এক্ষেত্রে বাস্তবায়ন পর্যায়ের কোনো ভুল নানান বিপত্তির সৃষ্টি করে। এজন্য একজন সফল উদ্যোক্তাকে অবশ্যই উপযুক্ত সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী

হতে হয়।

পরিশেষে, একজন উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য যা  মূল্যবোধ এবং অগ্রাধিকারের উপর নির্ভর করে।

Your Online Business Partner.

ডোমেইন রেজিঃ করুন মাত্র ৪৯ টাকায়…

.com, .net, .org, .me, .media, domains, .computer, .digital, .ltd, .school, .university, .clinic, .tv, xyz, .help সহ আরো প্রায় ১৫০০ নতুন ডোমেইন পাওয়া যাচ্ছে । স্বল্প মূল্যে আপনার পছন্দের ডোমেইনটি রেজিঃ করার এখনই সুবর্ণ সুযোগ। ৳ ৪৯ টাকার অফারটি শুধুমাত্র ১ম বছরের জন্য ও  বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত কোম্পানি , এনজিও , ফাউন্ডেশন, সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আমরা যে সকল ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরি করে থাকিঃ

✪ কোম্পানীর ওয়েবসাইট                                                            ✪ মুদির দোকান ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

✪ নিউজ পেপার ওয়েবসাইট                                                        ✪ ট্র্যাভেল এজেন্সি উইথ প্যাকেজ বুকিং সফটওয়্যার

✪  ফ্যাশন হাউসের ওয়েবসাইট                                                    ✪ পয়েন্ট অফ সেল, টিকেট বুকিং সফটওয়্যার

✪  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট                                                  ✪ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

✪  ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজ্ম ওয়েবসাইট                                         ✪ ব্লাড ডোনেসন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

✪  বিউটি পার্লার এবং জিমের ওয়েবসাইট                                      ✪ ইনভেন্টরী এন্ড স্টক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

✪  ফাইনেন্সিয়াল এসোসিয়েশন ওয়েবসাইট                                    ✪  গার্মেন্টস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

✪  ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানী ওয়েবসাইট

আরো জানতে ও সেবা পেতে এখুনি রিসেলার, অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

আকর্ষণীয় কমিশনে রিসেলার দেয়া হচ্ছে…

ন্যানো সুপার টেক পয়েন্ট লিমিটেড

⌂ প্রধান কার্যালয়ঃ উত্তর খামের, কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০

মোবাইলঃ ০১৭১১১১৩৮৫২ , ই-মেইলঃ nanosupport@lukiye.com

আশা করি এই পোস্টটি আপনাকে দরকারী কিছু তথ্য দিয়েছি। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন। পরবর্তী পোস্ট পাওয়ার জন্য সাথেই থাকুন…

Post a Comment

0Comments

Post a Comment (0)